অবিবাহিত বান্ধুবী ভর দুপুরে কল দিয়ে কাঁদো কাঁদো কণ্ঠে বললো, "দোস্ত ঘটনা তো একটা ঘটে গেছে রে! আমি এক্সের বাচ্চার মা হতে চলছি।"
-আমি সুয়ে ছিলাম ওর কথা শুনে লাফ দিয়ে উঠে বসলাম। বিস্মিত কণ্ঠে শুধালাম, "মানে? তিশা কি বলছিস তুই?"
"হ্যাঁ ঠিক বলছি রে। তুই একটু তাড়াতাড়ি বাহিরে আয়, আমি হসপিটালে গিয়ে টেস্ট করবো। ওই গোলামের পুতে আমার জীবনটা শেষ করে দিলোরে আফরিন। এখন আমার কি হবে?"
কয়দিন আগেই বান্ধুবী আমার কলেজের এক ছেলের উপর ক্রাশ খেয়ে বসে ছিলো। কিন্তু ছেলে প্রথমে পাওা দিতো না। তিশাও নাছোড়বান্দা! পিছে লেগেই ছিলো। এক পর্যায় তাদের প্রেম হলো,আবার এক মাসের মধ্যে ব্রেকআপ ও শেষ। সেই থেকে সা'প-লুডু সম্পর্ক তাদের।
আর তিশা নাকি তার বাচ্চার মা হতে চলছে? এটা কি করে সম্ভব? হিসাব মেলে না কোনো ভাবে। আমি কৌতুহল হয়ে বললাম,
"কিন্তু, এই বাচ্চা কই থেকে আসলো? তুই তো আর উনাকে বিয়ে করিসনি আর না তোকে সে ওই ভাবে পাওা দিতো! এক মাসের মধ্যে বাচ্চা?"
হঠাৎ তিশা আমাকে ধমক দিয়ে বললো, "তুই আমার বান্ধুবী নাকি উনার?"
--"উনার হতে যাবো কেন? আমি তো তোরই বান্ধুবী।"
--"তাহলে উনার হয়ে কথা বলছিস কেন? বল, কত টাকা ঘুস দিয়েছে তোকে?"
--" আচ্ছা বাবা স্যরি! রেগে যাচ্ছিস কেনো?"
"তো রাগবো না? বেশি কথা না বলে দ্রুত হসপিটালের সামনে আয়, আমিও আসছি।"
খঁ*ট করে কল কেটে দিলো তিশা। আমি চিন্তায় পড়ে গেলাম। অবিবাহিত মেয়ের বাচ্চা, বড়ই লজ্জাজনক ব্যপার! আমি সেই মুহূর্তেই কাউকে কিছু না বলে চুপিচুপি বাসা থেকে বেরিয়ে পড়লাম। ঠা*ডা পড়া রোদের মধ্যে ছুট লাগালাম৷ না জানি বান্ধুবীর আমার কি অবস্থা!
ত্রিশ মিনিটের রাস্তা দশ মিনিটে শেষ করছি। গিয়ে দেখি তিশা হাসপাতালের সামবে কাচুমাচু হয়ে দাঁড়িয়ে আছে, আমাকে দেখেই দৌড়ে এসে জড়িয়ে ধরলো, কেঁদে বুক ভাসিয়ে দিলো।
ওর কান্না দেখে আমিও কাঁদলাম, দুই বান্ধুবী জড়াজড়ি করে চিক্কুর দিয়ে কতক্ষণ কাঁদলাম। কান্না শেষে ওরে জিজ্ঞেস করলাম,
"কি করে বাচ্চা হয়ে গেলো দোস্ত? তুই তার সাথে কখনো ওগুলোও করছিস?"
"নাউজুবিল্লাহ! আস্তাগফিরুল্লাহ! এই ছিলো তোর মনে আফরিন? তুই আমাকে এতো বাজে মেয়ে ভাবছিস। ছি! এতো দিনে তুই এই চিনলি আমাকে?"
"সরি, সরি দোস্ত! আমাকে ভুল বুঝিস না। ইয়ে মানে তাহলে বাচ্চা? "
বান্ধুবী চট করে আমার মাথায় হাত দিয়ে কাঁদো কাঁদো কণ্ঠে বললো,
"তোর মাথা ছুঁয়ে বলছি, বিশ্বাস কর আফরিন। আমি কিছু করিনি। গতকাল রাতে স্বপ্নে দেখলাম, জোর করে ও আমাকে সাজেক ঘুরতে নিয়ে গেছে। আমি যেতে চাইনি তবুও নিছে। সারাদিন আমরা একসাথে অনেক ঘুরাঘুরি করে রাতে আলাদা রুমে ঘুমিয়েছি, তারপর আর কিছু মনে নেই আমার।
সকালে ঘুম থেকে উঠেই দেখি আমি বাসায়, ভীষণ মাথা ঘুরায়, বমি পায়। এটা তো প্রেগনেন্সির লক্ষণ।
ও আমার ঘুমের সুযোগ নিয়ে এত বড় ক্ষতি করলো আমার! ওর নামে আমি নারী নি'র্যা'ত'নের মামলা করবো, গোলামের পুতের চৌদ্দ গোষ্ঠীকে জেলের ভাত খাওয়াবো। তখন বুঝবে এই তিশা কি জিনিস!"
ওর কথা শুনে আমি জ্ঞা*ন হারাতে নিয়েও হারালাম না। উদাস হয়ে মুখ ফঁসকে বলে উঠলাম,
"তুই একটা কঠিন জিনিসরে ভাই!"
"কিহ্?"
আমি নড়েচড়ে দাঁড়ালাম। বন্ধুর এত বড় বিপদে আমি তার পাশে দাঁড়ালাম। তিশা কাঁধে হাত রেখে আশ্বাস দিয়ে বললাম,
"ইয়ে না মানে কিছু না! তুই চিন্তা করিস না আমি তোর পাশে আছি দোস্ত। আচ্ছা শোন? আগে থানায় যাই।"
"না। না। চল, আগে ডক্টরের কাছে যাই। আমি কোনো রিস্ক নিতে চাই না।"
আমি অমত করলাম, ওরে বুঝালাম আগে থানায় যাওয়া উচিত। এ নিয়ে এক পর্যায়ে দুই বান্ধুবী সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছি। এখন অভিজ্ঞদের পরমর্শ চাচ্ছি। আগে হসপিটালে যাওয়া উচিৎ নাকি থানায়?